Life Style
Trending

অতীতের সময় কেন বর্তমানের চেয়ে বেশি ভালো লাগে? পর্ব (1)

অতীতের সময় কেন বর্তমানের চেয়ে বেশি ভালো লাগে? পর্ব (1)

 

বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিমের আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম গানের মধ্যে যেমন আজকের কোন যুবক যুবতীরা প্রাসঙ্গিকতা খুঁজে পান না, তেমনি অনেক বৃদ্ধ এর মাঝে তাদের অনুভূতি খুঁজে পায় কেননা এটা অনেক আগেকার গান। সঠিক করে বলা যায় যে, গানে সকল কথার সাথে পুরোপুরি সম্পর্ক খুঁজে না পেলেও আজকের শিশুরা বড় হলে এই কথাগুলোর সাথে প্রাসঙ্গিকতা খুঁজে পাবে তাদের সোনালী অতীতে কেননা এই গান বর্তমানে কোন গান হিসেবে ব্যবহৃত হবে না প্রাচীন গানের সাথে বর্তমানে কোন মিল পাওয়া যায় না এজন্য বর্তমান শিশুরা সোনালী জীবন অতীতের কথা মনে পড়ে যাবে এটা বলা হয়েছে।

অতীতের সময় কেন বর্তমানের চেয়ে বেশি ভালো লাগে? পর্ব (1)বর্তমান থেকে যে অতিত খুব সুন্দর ছিল তা শুধু এই গানে নয় বিভিন্ন শিল্পীরা এবং কবিরা যুগে যুগে তাদের সৃষ্টির মাধ্যমে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। পিষ্ক ফ্লয়েডের হাই হোক এবং শাহ আব্দুল করিমের গানের কথা বলুন না কেন প্রত্যেকটা ক্ষেত্রে অতীতের কোনো না কোনো স্মৃতির কথা উল্লেখ আছে এই বিষয়ে কারণ অতীতের কোনো স্মৃতিময় ঘটনা কেউ কখনো ভুলতে পারে না। শাহ আব্দুল করিম যেমন আনন্দের স্মৃতিতে কাতর হয়েছিলেন একদিন বর্ষায় গাজীর গানের কথা ভেবে অন্যদিকে পিষ্ক ফ্লয়েডের ডেভিড গিলমোর অতীতের সবুজ ঘাস, আলো যেগুলো বর্তমানে থেকে সবুজতর এই কথা ভেবে খুবই আনন্দিত হয়েছিল ।

এ যেন এক বিশ্ব জননী মানব উপলব্ধি একরকম নতুন রহস্য ঘটিত সৃষ্টি যা যুগ যুগ ধরে ছিল এবং আগামীতেও চলমান থাকবে। জীবনানন্দ দাশ একটা প্রবাদে বলেছে যে, জানো কি অনেক যুগ চলে গেছে ? মরে গেছে অনেক নিপতি? অনেক সোনার ধান ঝরে গেছে জানো নাকি? বন্ধুদের সাথে বসলে কিংবা পরিবারের সদস্যদের সাথে বসলে কোন আলোচনা করলে সেই আলোচনা অতীতের কোন ঘটনাকে কেন্দ্র করে হয়ে থাকে। পৃথিবীতে এমন এখনো অনেক মানুষ আছে যারা অতীতের কথাগুলো মনে করে বর্তমানে খুবই আনন্দ পায়। অতীতের ঘটনাগুলো কোনোটা সুখের এবং কোনোটা দুঃখের কিন্তু অতীতের দিনগুলো খুব বেশি মনে পড়ে যায়।

অতীতের সময় কেন বর্তমানের চেয়ে বেশি ভালো লাগে? পর্ব (1)তাই বর্তমান কিংবা ভবিষ্যৎ যেমনই হোক না কেন সোনালী দিনগুলো অতীতেই হয়ে থাকে। একটা উদাহরণে বলা যায় যে, প্রাইমারি স্কুলের দিনগুলো আরো সহজ এবং সুন্দর ছিল এ কথাটা শুধু হাইস্কুলে যখন উঠি তখন বুঝতে পারি। শৈশবের সেই সব স্মৃতিই সবচেয়ে বেশি মজাদার ছিল এখন মনে হয়। হাই স্কুলে যখন বুঝতে শিখলাম তখন মনে হলো প্রাইমারি জীবনে চিন্তাভাবনাগুলো সহজ ছিল হাই স্কুল জীবনের স্বপ্নগুলো কঠিন। আবার যখন কলেজে উঠলাম তখন বুঝতে শিখলাম হাই স্কুল জীবনের চিন্তাভাবনাগুলো সহজ ছিল কলেজ জীবনে চিন্তাভাবনাগুলো কঠিন এবং ওই সব দিন গুলো খুবই সুন্দর ছিল। আমাদের পিছু টানে চক্র সারা জীবনি চলতে থাকে।

এভাবে চাকরি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে যত ধাপ অতিক্রম করি না কেন আগের স্মৃতি সবসময় সহজ এবং আনন্দময় বলে মনে হয়। অথচ জীবনের ওই সময়গুলো যখন পার করেছিলাম তখন মনে হতো ওই সময়গুলো চেয়ে কঠিন সময় জীবন আর কখনো পার করিনি। জীবনের সব ক্ষেত্রে অতীতকে সোনালী মনে হয় বর্তমানকে সোনালী মনে হয় না। সহজ এবং সুন্দর ছিলো সবকিছু যেন অতীতে। কিন্তু বর্তমান থেকে কেন অতীতকে এত ভাল মনে হয়? কোন জ্ঞানির কারণ আছে কি এর পেছনে? জার্নাল অফ পারসোনালিটি অ্যান্ড সোশ্যাল সাইকোলজি একটি গবেষণাপত্র হিগিন্স এই ঘটনার পেছনে একটি সম্ভাবনা উঠে আসে ১৯৮৮ সালে।

অতীতের সময় কেন বর্তমানের চেয়ে বেশি ভালো লাগে? পর্ব (1)মানুষ যখন বলে যে কোন একটি কনসার্ট খুব চমৎকার তখন তখন তারা বোঝাই যে তাঁর জীবনের দেখা এর থেকে চমৎকার কনসার্ট আর কখনো দেখেননি। মানুষ যখন অতীতের ঘটনাগুলো সম্পর্ক চিন্তা করে তখন তারা এই ঘটনার মূল্যায়নটি করে শুধু মনে রাখে কিন্তু সেই মূল্যায়নের কারণটি নয় এই কথা বলেছেন টরি হিগিন্স। অর্থাৎ মানুষ শুধু মনে রাখে ঘটনাটি মন্দ অথবা খারাপ ছিল নাকি। যখন কেউ হাই স্কুলে পড়া একটি কনসার্ট এর কথা চিন্তা করে তাদের মনে আছে যে তারা মনে করেছিল কনসার্টে চমৎকার কিন্তু ভুলে যায় যে তাদের এই কনসার্টের ভিত্তি ছিল হাই স্কুল পর্যন্ত দেখা সমস্ত কনসার্টের ভিত্তিতে সেরা কনসার্ট। যদি ওই কনসার্টে প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় দেখে তাহলে হয়তো এতটা ভাববে না যে ওই কনসার্টে এতটা চমৎকার বা সুন্দর ছিল।

এজন্যই পূর্বে কোন একটি নববর্ষ পুজো এবং ঈদ বা কোন উৎসব আমাদের নিকট যত চমৎকার ছিল ওই বয়স পর্যন্ত উৎযাপন করা সবচেয়ে আনন্দময় একটা সময়। যার ফলে স্বল্প অভিজ্ঞতার দরুন উৎসবগুলোর মুল্যায়ন আমাদের কাছে ছিল অনেক বেশি আর আমরা মনে রেখেছি সেই দিনগুলোর কথা সেই উৎসবে কথা সেই আনন্দের কথা। আমরা যখন আমাদের জীবনের প্রতিটি ঘটনার দিকে ফিরে তাকায় তখন অনেক কিছু অসাধারণ ,উজ্জ্বল এবং চমৎকার হিসেবে মনে রাখতে পারে অতীতের দিনগুলি।

অতীতের সময় কেন বর্তমানের চেয়ে বেশি ভালো লাগে? পর্ব (1)কেবল শুধু ভুলে যায় যে সেই দিনগুলো কত সুন্দর এবং কত আনন্দময়যভাবে পার করেছিলাম। তাই প্রাপ্তবয়স্কের পরিচিত লাভ করে অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে আমাদের সত্যিকার অর্থে অনেক বেশি প্রয়োজন হয়। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে জিনিস গুলো সবচেয়ে বেশি ভালো এবং সুন্দরময় ছিল যখন আমরা ছোট ছিলাম। সময়ের পার্থক্য হচ্ছে আরেকটি বড় ব্যাপার। অনেক গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে আমরা অতীতকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি যেখানে বর্তমান স্পষ্ট ভাবে ভাবতে হয়। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিরক্তির অনুভূতির জড়িত এই ঘটনার সাথে যা আপনাকে দৈনন্দিন জীবনে চলাচল করার জন্য মোকাবেলা করতে হবে এই ঘটনাগুলো কে।

যেমন বিল পরিশোধ করা ,কাপড় ধোঁয়া ,সামনে কোন পরীক্ষা ,ঘর পরিষ্কার করা ,দৈনন্দিন এমনকি আরো অনেক বিষয় বা ঘটনা যেগুলো প্রতিনিয়তো মোকাবেলা করতে হয়। এইসব ক্ষুদ্র বিরক্তি গুলোর কথা মনে আসে না যখন আপনি অতীত নিয়ে ভাবতে থাকবেন। আপনার মনে রাখার মতো সময় গুলো আপনি ভাবতে থাকবেন এবং সবচেয়ে আনন্দময় সময়কে ভাবতে থাকেন তাহলে বর্তমানের বিরক্তিকর সময় গুলোর কথা আর মনে পড়বে না।

Thank You for Visit.

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button