Life Style
Trending

মধুর আলস্য: কিছুই না যে করার শিল্প

মধুর আলস্য: কিছুই না যে করার শিল্প

ভালো না লাগা বা ভালো লাগা। শরীর খারাপ কিংবা কোনো অসুস্থতার কথা বলা হচ্ছে না এখানে। আবার মন খারাপের কথাও বলা হচ্ছে না। এই ভালো লাগা না মানে হচ্ছে কোন কিছুই ভালো লাগেনা এর সাথে আপনার মন ,স্ট্যাটাস ,শরীর ,পরীক্ষার রেজাল্ট , অফিসে প্রমোশন নিয়ে চিন্তিত থাকার কথা বলা হয়নি এখানে। এই ভালো না লাগাটা এমনই একটা অনুভূতি যাতে যে কোন ব্যক্তি যে কোন সময় আক্রান্ত হতে পারে। ধরুন, কোন একটা বড় পরীক্ষা আপনার সামনে, কিন্তু কোন বই আপনার পড়তে ভালো লাগছে না।

মধুর আলস্য: কিছুই না যে করার শিল্প

আবার অনেকের অফিসের কাজের চাপ থাকে যেমন প্রত্যেক দিনে ৫ টার ভিতরে অফিসে বসের কাছে কাজের হিসাব জমা দিতে হয় ।দেখা যাচ্ছে লাঞ্চ টাইম পার হতে চলল কাজ এখনো শুরু হয়নি।কাজ করতে ভালো লাগছে না। কোন কাজি একা একা সম্পন্ন হয়ে যায় না কোন ব্যক্তিকে তা সম্পাদন করতে হয়। কিন্তু ভালো লাগছেনা কাজ করতে এই অনুভূতি থেকে বের হতে পারছে না। তাহলে এর সমাধান কি? বসকে কাজের হিসাব দিতে হবে অন্যদিকে পরীক্ষাও দিতে হবে । এই অনুভূতিগুলো একান্ত ব্যক্তিগত অনুভূতি। এই অনুভূতিকে কোন কোন সংস্কৃতিতে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয় ।

 

আবার কোথাও কোথাও একে বাগে আনতে বিভিন্ন উপদেশ দেওয়া হয় যাতে মানুষ চিন্তামুক্ত থাকতে পারে। কারণ হল মানুষ কোন কাজ করলে তার বিনিময় উপার্জন করতে পারে আর এই অর্থ মানুষের জীবনধারণের খোরাক যোগায় ।যেখানে অলস জীবনযাপন মানে কোন কাজ না করা। তাই বলা যায় মানুষের মস্তিষ্ক সবচেয়ে জটিল একটা জায়গা ,আপনার নিজের কি করলে ভালো লাগবে কি করলে আপনি খুশি থাকবে সবই আপনার ব্যাক্তিগত ভাবে চিন্তা করতে হবে। প্রত্যেক মানুষের চলাচল কথাবার্তার ধরন গুলো আলাদা কেননা প্রত্যেকটা মানুষই প্রকৃতির নিয়ম থেকে আলাদা হয়। ধরা যাক ইতালির কথা, ইতালির এমন একটা ধারণা আছে যার নাম ডলসে ফার নিয়েন্তে।

মধুর আলস্য: কিছুই না যে করার শিল্পডলসে ফার নিয়েন্তে অর্থ হলো মধুর আলস্যে, অথবা কোন কিছু না করাকে বুঝায়। এটি দিয়ে তারা কেবল যেটি বোঝায় তা কেবল অলস বসে থাকা কে বোঝায় না বরং চুপ করে থাকা বা জীবনের ঘোর দৌড় থেকে বিরতি নেওয়াকে বুঝায় । বোকেটো শব্দটি হল জাপানি ভাষার। বোটেকো শব্দটির অর্থ হল নির্দিষ্ট কিছু সম্পর্কে চিন্তা করা ছাড়া শূন্যদৃষ্টিতে দূরে তাকানো। আমরা যখন বেশি চাপের মধ্যে থাকি তখন নিজেদের মন বাকেটো অবস্থায় চলে যায়। যদি আমরা নিজেদের ইচ্ছাকৃতভাবে আমরা আমাদের চিন্তা ভাবনা লাগাম টানতে পারি তাহলে আমাদের স্বাস্থ্যের সুফল বয়ে আনতে পারে।

একবার ভাবুন তো কাজের টেবিলে আপনি বসে আছেন কিন্তু আপনার হাতে কোন কাজ নেই ঐ সময়। কিন্তু আপনি কি চিন্তা ছাড়া বসে আছেন হয়তো ভাবছেন বাড়ি কি বাজার করতে হবে কিংবা এরপরে কোন কাজটা আমার করতে হবে। কিন্তু আপনার হুট করে মনে পরলো স্কুল জীবনের কোন শিক্ষকদের কথা বা স্কুল জীবনে ঘটে যাওয়া কোনো স্মৃতির কথা। আপনি বাড়ির বাইরে হয়তো কখনো ঘুরতে গিয়েছেন ওই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখে আপনি পটাপট কিছু ছবি তুলে নিলেন ক্যামেরায় যাতে ক্যামেরায় ছবি গুলো ঐ জায়গায় রোমান্টিক মুহূর্ত তুলে নেয়। আপনি যখন বাসায় এসে ছবি গুলো দেখেন হয়তো তখন ওই মুহূর্তে ঘটে যাওয়া বিষয়গুলো কিছুই মনে পড়বে না।

মধুর আলস্য: কিছুই না যে করার শিল্পহয়তো ওই সময় কি ঘটেছিল আপনি তা ভুলে যাবেন। আমরা সকলে যে অবস্থায় থাকি না কেন, তা সকলেয় সব সময় অতীত এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা করি।যেই বর্তমানে আমরা সব সময় থাকি ,বর্তমান নামে যে একটা সময় বা কাল আছে সেটা নিয়ে কখনো কেউ চিন্তা করিনা। আমরা এখন সময় পেলে মুঠো ফোনে সময় ব্যয় করে থাকি কিন্তু নিজেদের কোন কাজে আমরা সময় ব্যয় করি না। যখন অনবরত কিছু না কিছু নিয়ে আমরা ব্যস্ত থাকি ভালো চাকরি, ভালো বাড়ি-গাড়ি ,ভালো বেতন ,ভালো ফলাফল ,এসবের পেছনে ছুটতে থাকি তখন আমাদের মস্তিষ্ক ওই পরিস্থিতিতে অভ্যস্ত হয়ে যায়। সামরিক বিরতি নেওয়ার বাহানায় আমরা মোবাইল ফোনের সময় কাটিয়ে থাকি এবং ঐ সময়টা খুব আনন্দের সাথে কাটায়।

আমরা আমরা সাঁতার বা সাইকেল চালাতে শিখেও অনেক আনান্দ পেয়ে থাকি। ডোপামিন নামের হরমোনের কারসাজি আছে এসবের পেছনে। ডোপামিনের কারণে মনের ভাব নিয়ন্ত্রণ আবেগ বা উত্তেজনায় সাড়া দিয়ে থাকে। সাঁতার শেখা এবং সাইকেল চালানো এই সকল কাজগুলো শেখা কিন্তু একদিনে সম্ভব হয়ে ওঠেনা। যেমনটা পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করতে চাইলে অনেক বেশি পড়াশোনা করতে হয় এবং খুব মনোযোগ সহকারে পড়াশোনা করতে হয়। কিন্তু বর্তমানে ফেসবুক , গেমস এবং ইউটিউব ভিডিও ডোপামিনোকে দ্রুত গতি দিয়েছেন। এখন বেশি খুশি হতে হলে আপনাকে ঘাম ঝরানো কোন প্রয়োজন হয় না। প্রবাদ-প্রবচনে আছে যে ঘোড়া দেখলে খোঁড়া হওয়া, আমাদের মস্তিষ্কের অবস্থা এখন এই রকম। এখন বই পড়ে খুশি হতে চাই না আমাদের মস্তিষ্ক বরং ফাঁক পেলেই সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন বিনোদনমূলক গেমস খুঁজে থাকে।

যত তাড়াতাড়ি আমার সুখের অনুভূতি পায় তত তাড়াতাড়ি সেই সুখের অনুভুতি টা হারিয়ে যায়।আর তখনই আমরা বিষন্ন হয়ে পড়ি একঘেয়েমীপূর্ণ ভরে যায় যে কোন কাজে বিরক্ত বোধ হয় এবং কোন কাজে ভালো লাগে না তখন। প্রথমেই যে ভালো না লাগার কথা বলেছিলাম তার কারণ কিন্তু এটাই। অপ্রয়োজনীয়’ মোবাইল ব্যবহার করা এবং ক্রমাগত ছুটে চলা এক পর্যায়ে এসে এই ভালো না লাগার উপলব্ধি কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অপ্রয়োজনীয়’ মোবাইল ফোন ব্যবহার করলে মানুষের মানসিক সুখ শান্তি বিনষ্ট হয়ে যায় এবং এক পর্যায়ে তার শারীরিক অসুস্থতার রূপ ধারণ করে। এখন আমরা জাপানি বোকেটো এবং ইতালিয়ান ডলসে ফিরে যাব ।

মধুর আলস্য: কিছুই না যে করার শিল্পভাবছেন কখন কোথায় কিভাবে শুরু করব এখান থেকে বেরিয়ে আসার জন্য। হুট করে কোন কিছু সম্ভব হয় না। যে কাজে বেশি সময় দেওয়া যাবে সেই কাজে ভালো ফল আশা করা যায়। ধরেন আপনি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল আশা করছেন এর জন্য আপনার রাতদিন অধ্যাবসায় করছেন এবং পরিশ্রম করছেন । বর্তমানে আমরা যদি শারীরিক এবং মানসিক শান্তির আশা করি তাহলে মুঠোফোনের ব্যবহার বিধি কমিয়ে দিতে হবে এবং নিয়মিত কিছু ব্যায়ামের পরিচর্যা করতে হবে যেগুলো সকালে এবং রাতে ঘুমানোর আগে করলে আমাদের শরীর এবং মন প্রতিনিয়তই ভালো থাকবে। কোন কিছু করতে ইচ্ছা না হলে কোন একটি শান্ত পরিবেশে যান যেখানে আপনার ঐ কাজটি করতে মনোযোগ বৃদ্ধি করবে।

হতে পারে আপনার বিছানা বা ছোফা তারপরে আরাম করুন, এটা কোন রুটিন বা কাজের তালিকা নয়। পালে হাওয়া দিতে যাবেন না কখনো ভবিষ্যতে। হালকা গরম পানিতে স্নান আপনাকে নিরুদ্বেগ হতে সাহায্য করতে পারে যদি আপনি একটু বেশি সময় দিতে চান। ওই মুহূর্তে আপনি হাতে নিতে পারেন গরম এক কাপ দুধ বা কফি। এবার আপনি বোসতে পারেন কোন নদীর ধারে ,পার্কের বেঞ্চে। তারপর কি করবেন ?কিছুই করবেন না। কিভাবে করবেন এটা হচ্ছে কিছু না করার সবচেয়ে কঠিন পদক্ষেপ। আরাম করতে ভুলে গিয়েছি আমরা সত্যিকার অর্থে। আরাম করে বসুন প্রথমে। কম্পিউটার বা মোবাইল ফোন বন্ধ করে বা ভাইব্রেশন করে নোটিফিকেশন অফ করে রাখুন যাতে করে মোবাইল ও কম্পিউটার কিছু সময় আপনার থেকে দূরে থাকুক।

আপনি হালকা কোন সুর শুনতে পারবেন বা চোখ বন্ধ করে থাকতে পারবেন একদিকে তাকিয়ে থাকতে পারবেন। বোকেটো মোডে আপনার শ্বাস-প্রশ্বাসের কিছু অনুশীলনের কাজে সাহায্য করতে পারবে। দ্য ফোর পিলার প্লান এই বইটির রচিয়তা ডক্টর রঞ্জন চট্টোপাধ্যায় যেখানে ৩-৪-৫ শ্বাস-প্রশ্বাস পদ্ধতির কথা উল্লেখ করেছেন। এই পদ্ধতিটা হল ৩ সেকেন্ড ধরে শ্বাস নিন ৪ সেকেন্ড ধরে রাখুন এবং ৫ সেকেন্ড ধরে ছারতে থাকুন এবং এটা বারবার চেষ্টা করতে থাকুন। এই পদ্ধতি আপনার মেজাজ খিটখিটে হওয়ার থেকে রক্ষা করবে এবং আপনার স্নায়ু শান্ত করতে থাকবে।

অন্য একটি সহায়ক পরামর্শ হলো আপনার আশেপাশে যদি কোন ঘড়ি থাকে তাহলে সেটি সরিয়ে রাখবেন। কোন সময় সীমা নেই কিছু না করার সুতরাং আপনি যতক্ষণ ইচ্ছা ততক্ষণ কিছু না করার মনোভাব নিয়ে থাকতে পারবেন। আমরা সব সময় দেখে থাকি এবং ভাবতে থাকি যে আমরা কোন সময় নষ্ট করছি না। সঠিক এবং সুন্দর ভাবে আরাম করার সময় ঘড়ি আসে পাশে থাকুক এটা আসলে কোন মতেই ঠিক না। বিশ্রাম করার সময় ,সময় কোন ব্যাপার না। যে সময়টুকু আপনি কোন কাজে লাগাননি আসলে কিছুই করেননি সেটা গুরুত্বপূর্ণ।

Thank You for Visit.

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button