Sports
Trending

বাংলাদেশের সাফল্যের সম্ভাবনা জিম্বাবুয়েতে-2021

বাংলাদেশের সাফল্যের সম্ভাবনা জিম্বাবুয়েতে

তারা যখন আমাদের দেশে খেলতে আসে, আমরা যেভাবে একটি দল হিসাবে তাদের সাথে আচরণ করি,এইখানে তাদের সাথে সে আচরণ করা আমাদের পক্ষে সহজ না।

আবদুর রাজ্জাক প্রথম ওয়ানডেতে ২০০ উইকেট শিকারী বোলার। তিনি বর্তমানে পরিচালক হিসাবে দলের একটি অংশ। তিনি আরও বলেছিলেন, জিম্বাবুয়ে ৮ টি পরিচিত পরিস্থিতিতে সহায়তা পাবে।এর একদিন পর প্রথমবারের মতো জিম্বাবুয়ে সফরকারী তাসকিন আহমেদও রাজ্জাকের সাথে খেলছিলেন। তিনি আরও বলেছিলেন, কঠিন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশকে শক্ত প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে খেলতে হবে।

আইসিসিতে জিম্বাবুয়ের র‍্যাঙ্কিং ওয়ানডেতে ১৩ তম, টেস্টে দশম এবং টি-টোয়েন্টিতে একাদশ। শেষ ঘরের ম্যাচে জিম্বাবুয়ের কাছে হেরেছে বাংলাদেশ। গত দশকের শুরু থেকেই জিম্বাবুয়ে বাংলাদেশের মাটিতে ওয়ানডেতে একবার মাত্র বাংলাদেশের কাছে হেরেছে। তবে জাতীয় মাটিতে ওয়ানডেতে ৭০ শতাংশ লাভ সত্ত্বেও জিম্বাবুয়ের মাটিতে এই সংখ্যা ৪৮ শতাংশে নেমেছে। টাইগাররা সেখানে খেলা ২৬ টির মধ্যে ১৩ টি হেরেছে, তবে সেগুলি সব হারিয়েছে।

এমনকি সাদা পোশাক বাংলাদেশের পক্ষে জিম্বাবুয়ের মাটিতে রেকর্ডের জন্য কথা বলে না। এর আগে, বাংলাদেশ সেখানে ৭ টি ইভেন্টের মধ্যে একটিতে জিতেছিল। বাংলাদেশ সর্বশেষ ২০১৩ সালে জিম্বাবুয়ের পুরো সফর শেষ করেছে। বাংলাদেশ কোনও রাউন্ডের পরিষেবা জিততে পারেনি, বিপরীতে, ওয়ানডে রাউন্ডটি হেরে গেছে। মাত্র দু’বছর আগে ওয়ানডে পাঁচ ম্যাচের সিরিজটি ৩-২ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ। ছয় বছরের চাকরীর পর স্বেচ্ছাসেবীর নির্বাসন থেকে ফিরে জিম্বাবুয়েও পরীক্ষায় বাংলাদেশের কাছে হেরেছিল।

তবে এই জিম্বাবুয়ে এবং জিম্বাবুয়ের মধ্যে একটি বড় পার্থক্য রয়েছে, অন্তত ক্রিকেট টেস্টে। ২০১৩ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে তাদের বছরে তারা বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানের বিপক্ষে যথাক্রমে মাত্র ৩ টি টেস্ট জিতেছে। যদিও টেস্টগুলিতে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স খুব একটা ভাল হয়নি, তারা সাধারণত খেললে টেস্টে জিম্বাবুয়েকে হারাতে তাদের কমপক্ষে গতি অর্জন করতে হবে না।

তবে সমস্যাটি অন্য দুটি ফর্ম্যাটে হতে পারে। জিম্বাবুয়ের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স এটিতে অন্তত ইঙ্গিত দেয়। তাদের সর্বশেষ ওয়ানডে সিরিজে তারা পাকিস্তানকে নাচতে দেয়। তিন-গেমের সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে তারা অল্প সময়ের জন্য হেরে গেলেও তৃতীয় খেলায় তারা সুপার ওভার জিতেছিল।

টি-টোয়েন্টি সিরিজেও একই ঘটনা ঘটেছিল। সিরিজটি ২-১ গোলে হেরেও জিম্বাবুয়ে কমপক্ষে দুটি ম্যাচ জিততে সক্ষম হয়েছিল। তবে একই পাকিস্তানি দলের বিপক্ষে, গত বছর টি-টোয়েন্টি সিরিজে ফাঁকা ফিরে এসেছিল বাংলাদেশ।

বল নিয়ে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা মুজারাবানিকে আশীর্বাদ করে অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান ব্রেন্ডন টেইলর, শন ইরভিন এবং তরুণ ওয়েসলি মাধেভারকে দিয়ে বাংলাদেশকে বিপদে ফেলতে পারেন। পাকিস্তানের শেষ সফরের শেষ ওয়ানডেতে দ্রুত ৬ ফুট–বোলার সুপার ওভারে দুটি সহ মোট সাত উইকেট নিয়ে বিজয়ী নায়ক ছিলেন।

তিন মাসের ওয়াটার-টি-টোয়েন্টি -উইকেটের পোস্টের সময় ড্রামারদের বৌদ্ধ দেবতা ২৬ বছর বয়সী মিডিয়া পিচার দানহাতি একজন আত্মবিশ্বাসী দ্বি-দোকানের বুদ্ধিজীবী।

এবার বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে সিরিজের সবকটি ম্যাচ হরারে হবে। জিম্বাবুয়ের ভেন্যুগুলির মধ্যে হারারে তিহ্যগতভাবে আরও বেশি গতি রয়েছে। পরিসংখ্যানও এর সাক্ষ্য দেয়। ২০১৫ সাল থেকে সব ফরম্যাটে হারারে খেলানো ম্যাচে ফাস্ট বোলারদের ৮০% উইকেট রয়েছে।

জিম্বাবুয়েতে বাংলাদেশের শেষ সফরে প্লে মেকার রবিউল ইসলাম সেবা বাংলাদেশের হয়ে বল নিয়ে ব্যতিক্রমী দক্ষতা দেখিয়েছিলেন। জিম্বাবুয়ের ব্যাটসম্যানরা স্বল্প দফায় চঞ্চল হয়ে দীর্ঘ রানের জন্য নিরলসভাবে খেলেন রবিউল। দুটি গেমের সিরিজে তিনি মাত্র ১৯.৫৩ গড়ে গড়ে ১৫ উইকেট নিয়েছিলেন, যে কোনও সিরিজে বাংলাদেশি ফাস্ট পিচারের পক্ষে এটি সর্বোচ্চ। সিরিজে ১১০ ওভার খেলেছিলেন রবিউল। এর আগে এবং তার পরে আর কোনও বাংলাদেশের রেসার তার চেয়ে বেশি ওভার নিক্ষেপ করতে সক্ষম হয়নি। এই সিরিজে দু’বার পাঁচ উইকেট নিয়েছেন এই পেসার। টাইগারদের হয়ে টেস্টে পাঁচ উইকেট জয়ের রবিউলও সর্বশেষতম পেসার প্লেয়ার।

তবে আশা পাওয়া যাচ্ছে আবু জায়েদের দিকে তাকালে। বল সুইং আর লম্বা স্পেলে বল করা, রবিউলের এই ২টা দক্ষতাই জায়েদের ভেতর বিদ্যমান। সম্প্রতি যদিও শ্রীলঙ্কার খেলাতে ভাল করতে পারেনি, তবে জিম্বাবুয়েতে এই বাঁহাতি পেসার প্লেয়ার থেকে ভাল আশা রাখা যায়। আবার শ্রীলঙ্কায় তাসকিন আহমেদও ৮টা উইকেট নিয়ে তার নতুন করে ফেরার আভাস দেয়, যা ছিল ২য় সবোর্চ্চ উইকেট।

পেসারদের সাফল্য যদিও তুলনামূলক বেশি, কিন্তু স্পিনাররাও একেবারে পিছিয়ে নেয়। আশওয়েল প্রিন্স, টাইগারদের নব ব্যাটিং পরামর্শকের মতে, স্পিনাররা বছরের এই সময়টা ভাল সাহায্য পায়।

তবে সেক্ষেত্রে সাকিব আল হাসানকেই সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখতে হবে। সাকিব জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে সব ফরম্যাট দিয়ে উইকেট নেয় মোট ১১৩, যা আমাদের দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। দেশের পক্ষে জিম্বাবুয়ের মাটিতেও সাকিবের (৩২) উইকেট সবোর্চ্চ।

তবে সাকিবের ব্যাটিং নিয়েও বেশ আশাবাদী সারা বাংলাদেশ। প্রস্তুতি ম্যাচেই জিম্বাবুয়ের এগারোর বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক ইরিংস খেলে ৫৬ বলে সাকিব ৭৪ রান করেন এবং আভাস দেন, এবার এই অলরাউন্ডার ব্যাট হাতে ফর্মে ফিরবে। আবার সে তিন-তিনজন ব্যাটসম্যানকেও বল হাতে বোল্ড করে।

যদিও তামিম ইকবাল টেস্ট একদমই ভাল খেলছেন না। অন্যদিকে সাইফ হাসান প্রস্তুতি ম্যাচে ফিফটি করেছেন, সে সুবাদে টেস্টে তিনি জায়গা পেতে পারেন। আবার সাদমান ইসলামও তামিমের অনুপস্থিতিতে জায়গা পেয়ে যেতেই পারেন। কিন্তু তামিম ওয়ান-ডে কিংবা টি-টোয়েন্টিতে পেয়ে যেতে পারেন অন্য ২ সাথী। নাঈম শেখকে শ্রীলঙ্কার শেষ খেলায় ক্রমান্বয়ে ব্যর্থ হওয়া লিটন দাসের জায়গা দেওয়া হয়। ওয়ান-ডে অধিনায়ক তামিম তাকে ওয়ান-ডে তে সুৃযোগ দিতে চায়। আর টি-টোয়েন্টিতে হয়তো নিজের জায়গা হারাতে হবে না লিটন দাসকে।

দল নির্বাচনের ২ পরে ডাকা হয় মাহমুদউল্লাহকে, তাই সে হয়তো শুধু বেঞ্চ দখলের কাজেই আসবে। তবে তামিম যেহেতু ইনজুর্ড, তাই ভাগ্যে থাকলে শেষ মুহূর্তে মাহমুদউল্লাহকে খেলতে নামতেও হতে পারে। সে প্রস্তুতি খেলায় পোশাকি মহড়াটা দিয়েছে, শাণ দিয়ে নিয়েছে নিজের ব্যাটটাকেও। তবে বাকি দু-ফরম্যাটে তার অবস্থান শক্তই।

নুরুল হাসান সোহান ঘরোয়া ক্রিকেট খেলে অসামান্য প্রতাভার প্রমাণ দিয়ে, দলে জায়গা করে নিয়েছে তিন ফরম্যাটেই। সম্প্রতি শেষ হওয়া ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ টি-টোয়েন্টিতে প্রায় ১৫০ স্ট্রাইক রেটে তার রান ছিল ৩৮৯, যা ছিল ৩য় সর্বোচ্চ রান। মুশফিকুর টি-টোয়েন্টি থেকে ছুটি নিয়েছে, সোহানের তার জায়গাটা পাওয়ার সর্বোচ্চ সম্ভাবনা আছে।

তরুণ তুর্কি শামীম হোসেন প্রথমবারের মতো হয়তো টি-টোয়েন্টির দলে জায়গা করে নেবে। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে লোয়ার অর্ডারে ব্যাটিং করে তার রান ছিল ২৪৩, স্ট্রাইকরেট ১৪৬। জাতিয় দলের ফিনিশারের জায়গা সে পেতে পারে।

জিম্বাবুয়ে সফরে ৩ ফরম্যাটে মাত্র ৬ জন পূর্ব অভিজ্ঞ, স্কোয়াড ধরে। মুমিনুল, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, তামিম ইকবাল, রুবেল হোসেন ও মুমিনুল হক তামিম ইকবাল হচ্ছেন সে ৬ জন। এদের মধ্যে কেবল সাকিব ও তামিম খেলবেন সব ফরম্যাটেই। রুবেল খেলাতে বর্তমানে বেশ অনিয়মিত। তাই এবারের সাফল্যের বেশিরভাগের ভার-ই নতুনদের ঘাড়ে।

আন্তর্জাতিক খেলায় দেশের বাইরে আমরা সর্বশেষ তিন বছর আগে সিরিজ জয় করেছিলাম। বিপক্ষে ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ওই বার টি-টোয়েন্টি এবং ওয়ান্ডে দু-ফরম্যাটের জয়ীই ছিল আমাদের টাইগাররা। বাংলাদেশর বিদেশের মাটিতে প্রথম টেস্ট জয়ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধেই ছিল। এবং ২০০৯ এর সে সিরিজে দ্বিতীয় সারিতে ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলটি।

বিদেশের মাটিতে যেকোনো ফরম্যাটেই এদেশের জয় সর্বশেষ ভারতের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টিতে, যা ছিল দেড় বছর আগে। ‘ডেডলক’ টি কি তবে এবার ভাঙতে যাচ্ছে? তবে জিম্বাবুয়ে এ জয় যে সহজে হতে দেবে না, তা নিশ্চিত।

Thanks For Visit.

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button