Media
Trending

মিঠুন-শ্রীদেবী: যে প্রেমকাহিনী

মিঠুন-শ্রীদেবী: যে প্রেমকাহিনী বলিউডের ছবিকেও হার মানায়

 

সিনেমা আর বাস্তব জীবন, এই শব্দ ২টি কে একে অপরের বিপরীত শব্দ হিসাবেই বিবেচনা করা হয়।সিনেমার জগৎ টা যেহেতু কাল্পনিক, তাই সেটা রঙিন। অন্য দিকে বাস্তবিকতা অনেকটাই বর্ণহীন ও অন্ধকারে ঘেরা।তবে একটু গভীরে গেলে বোঝা যায় যে বাস্তব ও সিনেমার মধ্য পার্থক্য খুবই সামান্য।প্রকৃতপক্ষে সিনেমা জগতেরবীভৎসতা কখনো কখনো বাস্তবিকতা কেও হার মানিয়ে ফেলে।সিনেমার মানুষদের হাহাকার আর কষ্ট কিছু কিছু সময় বাস্তবের মানুষদেরও অবাক হতে বাধ্য করে।সিনেমায় যে মানুষদের আমরা সচরাচর হাসিখুসি দেখে অভ্যস্ত,দিন শেষে তাদের কেও ফিরতে হয় বাস্তবের কঠিন সত্যতায়।তাই সিনেমার রসায়নের বাইরেও সিনেমার সেই সব নায়ক নায়িকারও অন্য সব সাধারণ মানুষদের মতই

নিজেদের ব্যক্তিগত জীবন আছে, যেখানে তারাও প্রেমে পড়ে, তাদেরও হয় বিচ্ছেদ, রাতের অন্ধকারে সবার থেকে লুকিয়ে তারাও কাঁদে।সিনেমা জগতে প্রেম এবং তার চেয়েও বেশি বিচ্ছেদ নিয়ে আলোচনায় আসা জুটি নেহাতই কম নয়।বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন জুটি যেমন একে অপরের প্রেমে পরেছে, সেসবের গল্পে তেমনি মেতে উঠেছে সংবাদ মাধ্যম থেকে সাধারণ জনগণ।আবার সময়ের সাথে সাথে যেমন মানুষের আলোচনার প্রসঙ্গ বদলে গেছে তেমনই বদলে গেছে অনেকের প্রেমিক- প্রেমিকাও।তবে কিছু কিছু জুটি, যারা নিজেরা তো একে অপরের বিচ্ছেদ ভুলে অন্য কারও সাথে ভালই জীবন কাটাছে তবে মানুষ তাদের নিয়ে আলোচনা করে আজও, সেসব বিচ্ছেদ নিয়ে মানুষের কৌতূহল ফুরাইনি দীর্ঘ সময় পরও।এমনই এক আলাদা হয়ে যাওয়া জুটি হলেন মিঠুন ও শ্রীদেবী।

তাদের বিচ্ছেদ নিয়ে আজও মানুষের কৌতূহলের কারণ সম্ভবত এর পিছনের অমিমাংসিত রহস্য। কোনো ঘটনা সম্পর্কে মানুষ যখন সবটুকুই জেনে যায় তখন সেটার উপর থেকে মানুষের আগ্রহ ক্রমশ কমতে থাকে,অন্যদিকে ধোঁয়াশাপূর্ণ রহস্য মানুষ মনে রাখে দীর্ঘকাল যাবত।মিঠুন চক্রবর্তী ও শ্রীদেবীর এই প্রেম কাহানীর পার্শ্ব চরিত্র ছিল আরও ৩জন।তাদের মধ্যে প্রযোজক বনি কাপুর হলেন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।এই গল্পের শুরু মূলত তার সাথে মিঠুন চক্রবর্তীর বন্ধুত্ব দিয়ে।বনি ও মিঠুনের পরিচয় হয় ‘হাম পাঁচ’ সিনেমার নির্মাণকালে।১৯৮০ সালে সিনেমা টির মুক্তি হয়। সিনেমা টি ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে দারুন সফলতা পায়।সিনেমা টি তে সঞ্জীব কুমার, সাবানা আজমি, নাসিরুদ্দিন শাহ, রাজ বাব্বর, অমরেশ পুরীর সাথে অভিনয় করেন মিঠুন চক্রবর্তীও।

মিঠুন-শ্রীদেবী: যে প্রেমকাহিনী
মিঠুন-শ্রীদেবী: যে প্রেমকাহিনী

এই সিনেমার প্রযোজক ছিলেন বনি কাপুর।এই সিনেমার কাজ করতে গিয়েই মিঠুন ও বনির বন্ধুত্ব হয়। মিঠুনেরর প্রথম স্ত্রী ছিলেন মডেল ও অভিনেত্রী হেলেনা লিউক। তাদের দাম্পত্যজীবন বেশিদিন চলেনি।চার মাসে তাদের বিচ্ছেদ হয়। সে বছরেই মিঠুন বিয়ে করে ফেলেন নিজের চেয়ে বয়সে বড় ও বেশ প্রতিষ্ঠিত অভিনেত্রী যোগিতা বালিকে।এছাড়াও যোগিতা প্রখ্যাত কন্ঠশিল্পী কিশোর কুমারের প্রাক্তন স্ত্রী ছিলেন।যোগিতা ও কিশোর কুমার তিন বছরের দাম্পত্য জীবন একসাথে কাটিয়েছিলেন। বলিউডের অভিনয় জীবনের শুরুর দিক টা মিঠুনের জন্যে খুব একটা সহজ ছিল না।সে সময়ে যোগিতা মিঠুনকে অনেক সাহায্য করে।যোগিতার কারণেই মিঠুন বলিউডে ভাল পরিচিতি পায়।সে জন্যে মিঠুন যোগিতা প্রতি যথেষ্ট কৃতজ্ঞ ছিলেন। তবে ১৯৮২ সালে মিঠুনের সিনেমা ‘ডিস্কো ড্যান্সার’

ব্লকবাস্টার হবার পরই সব বদলাতে থাকে।অ্যাকশন সিনেমা করে মিঠুন যখন জনপ্রিয়তার তুঙ্গে তখনই ১৯৮৪ সালে ‘জাগ উঠা ইনশান’ সিনেমার শুটিং সেটে তিনি প্রেমে পরেন শ্রীদেবীর।শ্রীদেবী সম্মিতিও মেলে।এবং শোনা যায় এক পর্যায়ে তারা বিয়েও করে ফেলে।যদিও মিঠুন বা শ্রীদেবীর কেও ই এই বিয়ের সত্যতা স্বীকার করেনি কখনওই।কিন্তু সে সময়ের একটি জনপ্রিয় সংবাদ মাধ্যম তাদের বিয়ের সনদপত্র ফাঁস করে, যা অনুযায়ী তাদের বিয়ে হয়েছিল ১৯৮৫ সালে।

বলিউডের সে সময়ে ধরম- হেমা, রাজ বাব্বর- স্মিতার মতো মিঠুন ও শ্রীদেবী ও নাকি একি ভাবে হেটেছিল পরকীয়া ও দ্বিতীয় বিয়ের পথেই।যা- হোক মিঠুন ও শ্রীদেবীর একসাথে পরবর্তী সিনেমা ছিল ‘ওয়াতান কি রাখোয়ালে’, যা মুক্তি পায় ১৯৮৭ সালে।ততদিনে তাদের মাঝে ঢুকে পরেছিল বনি কাপুর।১৯৮৪ সালেই শ্রীদেবী ‘মিস্টার ইন্ডিয়া’ তে কাজ করার সময় তার প্রযোজক বনি কাপুরের সাথে পরিচর ঘটে।বনি তখন মোনা কাপুরের স্বামী।তবুও শ্রীদেবীর অতুলনীয় সৌন্দর্যের প্রেমে পাগল হয়ে ওঠেন বনি কাপুর।মিঠুনের প্রেমে মগ্ন থাকায় শ্রীদেবী যদিও তখন বনিকে তেমন পাত্তা দেয়নি।তবে সেসময় শ্রীদেবীর সম্মিতি না পেলেও চেষ্টা ছাড়েননি বনি কাপুর। অনিল কাপুর ও শ্রীদেবী কে জুটি বানিয়ে নিজ প্রযোজনায় উপর্যুপরি সিনেমা বানান বনি কাপুর।

তাছাড়াও মোটা অঙ্কের দেনার শোধ দিয়ে শ্রীদেবীর মায়ের পছন্দের পাত্র হবারও চেষ্টা করেন বনি। তবে বনির এসব চেষ্টা চোখ এড়াiই না মিঠুনের।যার ফলে মিঠুন ও বনির বন্ধুত্ব নষ্ট হতে শুরু করে।এমনকি মিঠুন শ্রীদেবী কেও চাপ দিতে থাকেন।মিঠুনের সন্দেহ দূর করতে শেষ অবধি,শ্রীদেবী বাধ্য হয়ে বনিকে রাখিও পরান।তবে দ্রুতই  ‘বলিউড ডিভা ‘

শ্রীদেবী অতিষ্ঠ হয়ে যান।দিনের পর দিন মিঠুনের জীবনের ‘অন্য নারী’ হয়ে জীবনযাপনে শ্রীদেবী ক্লান্ত হয়ে পরেন।কারণ মিঠুনের সাথে তার যতো গভীর সম্পর্কই ভেতরে ভেতরে থাকুক প্রকাশ্যে মিঠুন যোগিতার স্বামী, তার সন্তানদের বাবা।এই বিষয় টা আর মেনে নিতে পারছিল না শ্রীদেবী।তাই শেষ অবধি মিঠুন কে তিনি আল্টিমেটাম দেন।বেছে নিতে বলেন যেকোনো একজন কে, হয় শ্রীদেবী নয় যোগিতা।যোগিতা যদিও মিঠুন ও শ্রীদেবীর সম্পর্কের ব্যাপারে বেশ কিছুটা জানতেন।তবে শুরুতে কোনো কঠিন ব্যবস্থা তিনি নিননি।

বরং তিনি এ ও বলেন যে, ” ও (মিঠুন) দ্বিতীয় স্ত্রী গ্রহন করলেও আমি তা মেনে নেব।” মিঠুনকে তিনি ঠিক এতটাই পাগলের মতো ভালবাসতেন।হয়ত সে কারণেই মিঠুন এত সহজে পরকীয়া চালাতে পারছিলেন।অবাক করার বিষয় হচ্ছে এতক্ষন গল্পের ব্যাকফুটে থাকা যোগিতার কারণেই গল্প বিপরীত দিকে ঘুরে যায়।আগে যায় বলুন না কেন মিঠুন- শ্রীদেবীর বিয়ের গুঞ্জনকানে আসলে এক সময় আত্মহত্যার চেষ্টা করেন যোগিতা। তখন মিঠুনের মন আবারও ফিরে বসে। মিঠুন নিজের জীবনের যোগিতার গুরুত্ব আবারও বুঝতে শুরু করে। এবং উপলব্ধি করে যে তার পক্ষে যোগিতাকে ছেড়ে দেওয়া সম্ভব হবেনা, কারণ ইতিমধ্যে যোগিতা তার দুই সন্তানের মা।ফলে যোগিতার যত্ন নিতে গিয়ে শ্রীদেবীর থেকে দূরে সরতে থাকেন মিঠুন।

এরপর মিঠুন ও যোগিতার তৃতীয় সন্তানের জন্ম হলে শ্রীদেবী এ দম্পতির বিচ্ছেদের আশা ছেড়ে দেয়।এর পর শ্রীদেবী নিজেই মিঠুনের থেকে সরে আসেন।এমনকি ‘ ওয়াক্ত কি আওয়াজ(১৯৮৮) ‘ আর ‘ গুরু(১৯৮৯) ‘ সিনেমার পর ব্যক্তি জীবনের সাথে সাথে সিনেমা জগতেও মিঠুন ও শ্রীদেবী জুটির ইতি ঘটে।এমনকি ‘ গুরু ‘ সিনেমার শেষ দৃশ্যই ছিল তাদের বাস্তব জীবনের শেষ সাক্ষাৎ।এ গল্পে কার দোষ কতটা ছিল যে বিচারে না গেলেও এ কথা একেবারে সত্য যে লাভ সবচেয়ে বেশি যোগিতার হয়েছিল। কেননা জনসম্মুখে মিঠুন নিজের পরকীয়ার কথা তো কখনো স্বীকার করেইনি বরং যোগিতার প্রতি নিজের প্রেমের গল্পই করে বেড়িয়েছে।তাই মনে কষ্ট পেলেও সমাজে তার সম্মান নষ্ট হয়নি।এদিকে শ্রীদেবী বা মোনা কারও ভাগ্যই ভাল ছিল না।

মিঠুন-শ্রীদেবী: যে প্রেমকাহিনী

মিঠুন অস্বীকার করাই মিঠুনের সাথে তার প্রেম বা বিয়ে কোনো টাই সামাজিক স্বীকৃত পায় না।অন্যদিকে মোনার ভাগ্য ছিল আরও খারাপ। কারণ যে শ্রীদেবী একদা তার স্বামী কে রাখি পরিয়েছিল মিঠুনকে না পেয়ে সেই আবার প্রেম করতে থাকে বনির সাথে। যার ফলে মোনা আর বনির দাম্পত্যকলহ আর অশান্তির শুরু, যার ফল স্বরূপ তাদের বিচ্ছেদ ঘটে ১৯৯৬ সালে। আরও মজার ব্যাপাট হলো ১৯৯৬ সালেই বনি ও শ্রীদেবীর বিয়েরও আনুষ্ঠানিক স্বীকৃত ঘটে, কিন্তু নাটক তার আগ অবধি কম চলেনি।এর আগ অবধি প্রকাশ্যে শ্রীদেবী বনির সাথে তার প্রেমের কথা কোনো ভাবেই স্বীকার করেনা এবং এরকম সকল সম্ভাবনাকেই ‘গুজব’ হিসাবে আক্ষায়িত করছিল।তবে অন্তঃসত্ত্বা হবার পর তিনি বলেন তাদের কয়েক মাস আগেই বিয়ে হয়ে গেছে।

এ কথা কেউ ই হয়ত অস্বীকার করতে পারবে না যে এই বহুমূল প্রেমকাহিনী অনেক রোম্যান্টিক সিনেমাকেই হার মানাবে।এবার গল্পের সমাপ্তি তে আসা যাক।এই গল্পের সবচেয়ে হতভাগ্য ব্যক্তি, মোনা কাপুর মারা যান ২০১২ সালে।তিনি দু- সন্তানের মা ছিলেন।২০১৮ তে না পেরার দেশি চলে যান শ্রীদেবীও। তার আগ অবধি দীর্ঘ ২২ বছর অবশ্য বনি কাপুরের সাথে দাম্পত্য জীবন কাটিয়েছিলেন তিনি। তিনিও ২টি সন্তানের মা হয়েছিলেন।অন্য দিকে মিঠুন ও যোগিতা ভালভাবেই তারপর সংসার করে। তাদের মোট ৪টি সন্তান আছে। তবে শ্রীদেবীর মৃত্যুর পর তাদের সম্পর্ক নিয়ে কথা বলে মিঠুন।

তিনি বলেছিলেন-

 

আমি ও শ্রী আমরা দুজনে হাসি ,মজা,আড্ডার মাঝে কাজ করতে গিয়ে সম্পর্কে জড়িয়ে গেলাম। সেই সম্পর্কের সূত্রে ধরে আমি ও শ্রী  একটি ভালোলাগার বন্ধনে ক্রমশ জড়িয়ে গেয়েছিলাম । সে সম্পর্কে হয়তো বা ছিল,শান্তির প্রত্যাশা। হয়তো চাহিদার প্রতিশ্রুতিও।

তাদের বিচ্ছেদ সম্পর্কে তিনি আরও বলেন-

“দায়বদ্ধকতা!জানিনা, সত্যি বলতে, এসব জানিনা আমি।কিন্তু এইটুকুইআমি জানি, সেই দায় কখনও আমি মেটাতে পেরেছি, হয়তো বা  কখনও পারিনি।আর এই পারা, না- পারার মাঝেই আমার আর শ্রী এর সম্পর্কে একটা দূরত্ব তৈরি হয়েছিল।বাকিটা শুধুমাত্র মন খারাপের স্মৃতি।আমি  আজীবন মনে রাখবো শ্রীকে।শ্রী-ও আমাকে স্মৃতিতে রেখেছে, এ কথা  জানি আমি।।”

 

 

Thanks For Visit

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button