Sports
Trending

Euro cup 2020

Euro cup 2020

লন্ডনের ওয়েম্বলই থেকে রোমের এস্তাদিও অলিম্পিক। মোট এগারো টি শহরের এগারো স্টেডিয়ামের ভ্রমন সেরে Euro-2020 এর পর্দা নেমেছে মাত্র একদিন। জয়ধ্বনি, আনন্দ, হতাশা বা বেদনা মিলেমিশে Euro-2020 যেন কোভিড আক্রান্ত এই পৃথিবীতে নিয়ে এলো একটুখানি আনন্দ। ফুটবলে বিভোর হয়ে রাত জেগে থাকার দিনের সমাপ্তিতে চলুন ফিরে দেখি, কী কী ঘটলো সারা ইউরো তে।

আত্মঘাতী যে গোল :

 ডেমিরাল আরম্ভ করে। তাও প্রথম ম্যাচের প্রথম গোল সেটা! সেখান থেকেই যেন ঘটনা টা হরহামেশাই ঘটেছে। Euro-2020 কে যদি আত্মঘাতী গোলের মেলা বলা হয় তো ভুল হবেনা। এ অবধি ১১ বার খেলোয়াড়রা নিজেরাই নিজেদের জালে বল জড়িয়েছে। আথচ গত সব Euro-তে সর্বসাকুল্যে আত্মঘাতী গোলের সংখ্যা ছিল মোটে ৯!

এ এগারো গোলের ৮টাই হয় গ্রুপপর্বে। তাছাড়া সেকেন্ড রাউন্ড, কোয়ার্টার ফাইনাল আর সেমিফাইনালে আত্মঘাতী গোল হয় একটি করে। এনরিকের স্পেন আত্মঘাতী গোলের সুবিধা পায় সবচেয়ে বেশি। তারা এই সুবাদে মোট তিনটি গোল পেয়েছে। অবশ্য তারা ক্রোয়েশিয়াকে একটা ফেরতও দেয়।

স্পেনের আত্মঘাতী গোল বেশি পাওয়া থেকেই একটু আন্দাজ করা যায় সম্প্রতি এমন গোল বেশি হবার কারণ। এখন ফুটবলে উইং থেকে সরাসরি ক্রস না করে অধিকাংশ ক্ষেত্রে খেলোয়াড়রা কাট-ইন করে ছোট ডি এর সামনে থেকে মাইনাস করতে পছন্দ করে। যে কারণে সেই বল ফেরাতে আত্মঘাতী গোলের সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়। কিন্তু এই Euro-তে এটার সাথে সাথে বেশ কিছু দৃষ্টিকটু ভুলও শামিল ছিল। ম্যাটস হামেলস আর উনাই সিমনের গোল তারই প্রমান।

ফুলব্যাকদের জয়ধ্বনি :

সর্বপ্রথম বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজিল ১৯৭০ সালে “ব্যাক ফোর” প্রথা শুরু করে। সে থেকেই ফুলব্যাকদের আবদানে প্রচন্ডরকম বদল আসে। আধুনিক ফুটবলে ফুলব্যাকদের অবদান অপরিহার্য। বড় বড় প্রোফাইলের কোচদের দেখলেই তা বোঝা সহজ। আর কিছুর চাহিদা তাদের থাকুক বা না থাকুক বিশ্বসেরা ফুলব্যাকদের বিকল্প তাদের কাছে নায়।

এ Euro-তে ফুলব্যাকদের পারফর্ম্যান্স ছিল আরো দূর্দান্ত। এর প্রধান কারন হচ্ছে অধিকাংশ টিমই ‘থ্রি ম্যান ডিফেন্স’ নিয়ে খেলেছে। আর যারা এ পদ্ধতিতে খেলেনি, তারাও কমপক্ষে টু হোল্ডিং মিডফিল্ডার নামাই মাঠে। এর কারণে ফুলব্যাকদের ছিল সম্পূর্ণ স্বাধীনতা।

ইংল্যান্ডের লুক-শ বা ইতালির স্পিনাৎজোলা দূর্দান্ত খেলেছে, সাথে অস্ট্রিয়ার ডেভিড, বেলজিয়ামের মুনিয়ের আথবা ডোকুও খেলেছল অসাধারণ। রবিন গোসেন্সেরও কম যান না! দলকে আক্রমণের জন্যে এরাই ভিত তৈরি করে দিয়েছে। এমনকি ছোট দলেদের ফুলব্যাকদেরও ছিল সম্পূর্ণ স্বাধীনতা। সে স্বাধীনতাকে সম্পূর্ণ কাজে লাগিয়েছেন ডেনমার্কের মাহেলে। এমন চলতে থাকলে অদূরেই ‘থ্রি ম্যান ডিফেন্স’ হয়ে যাবে ফুটবলের সর্বাধিক জনপ্রিয় কৌশল।

ইট ইস কামিং হোম

 ইংলিশ মিডিয়ার কারণে ‘ইট ইস কামিং হোম’ পুরো বিশ্বজুড়েই অনেক পরিচিত। কিন্তু প্রত্যেক বড় আসরের প্রারম্ভেই বেশি হম্বিতম্বি করেও ইংল্যান্ডের ডাহা হারের ফলে যুত করে উঠতে পারেনি বাক্যটি। তবে এই Euro-তে বাক্যটি বেশ জোরেশোরেই উচ্চারণ হয়েছে। কিন্তু ফোঁড়ন কাটার সুযোগ পেলেও অনেকেই লুফে নিয়েছে। যেমন সেমিফাইনালের পূর্বের প্রেস কনফারেন্সে ডেনমার্কের গোলকিপার ক্যাসপার স্মাইলকেই টিপ্পনী কেটেছিলেন,

” Is it ever being home?”

‘থ্রি লায়ন্স’ দলটি বিশ্বকাপ ২০১৮ শেষ করেছিল সেমিফাইনাল এ। বেশ সম্ভাবনা থাকার সত্বেও পরাজিত হয় এ দল। তবে সাউথগেটের শিষ্যরা নককআউট বা টাইব্রেকারের সমস্যাটা শেষ অবধি কাটিয়েই ফেলেছিল। যার কারণে সারা ইংল্যান্ড এই বারে সুন্দর ছন্দে খেলেছে।

তবে শেষ অবধি কাপ আর ঘরে ফিরলো না। মর্মান্তিক টাইব্রেকারে মন ভেঙে দিল ইংলিশ সমর্থকদের। খেলা শেষে কিন্তু এই পরিচিত বাক্য কে ব্যঙ্গ করতে ভলেনি বনুচ্চি। ক্যামেরার সামনে দাড়িয়ে চেঁচাচ্ছিল,

“It is coming to Rome!”

ফিরলো আজ্জুরিরা:

ফুটবলের দুনিয়াতে ইতালি শীর্ষে থাকা এক দেশ। অথচ ৪বার কাপ-জয়ী এই দল ভাল খেলা দেখাতে পারছেনা বেশ কয়েক বছর যাবতই। দলটি রাশিয়া বিশ্বকাপের বাছাইপর্বেও টিকতে পারেনি। তখন, সেই দুঃসময়ে রবার্তো মানচিনি দলের হাল ধরে।

আসা মাত্রই এক সাহসী সিদ্ধান্তে পৌছালো। ইতালিও রক্ষণাত্মক ‘কাতেনাচ্চিও’ কৌশল তিনি বাদ দিলো। দলে শুরু করালো দুর্দান্ত ধ্রুপদী আক্রমণাত্মক কৌশলের চর্চা। ইতালির সেই বেহাল অবস্থায় তা অবশ্যই এক দারুন সাহসী পদক্ষেপ ছিল।

আর ভাগ্য যে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সাহসীদের দলই পছন্দ করে। ইতালির পুরো দলই সুন্দর ভাবে মানিয়ে নেয় এই আক্রমণাত্মক কৌশলে। কিন্তু সে কারণে অবশ্য মানচিনি নিজস্ব ঐতিহ্যের অপমান করেননি। রক্ষণভাগের ভারসাম্যও রেখেছেন সাথে সাথে।

যার ফলাফল পরিষ্কার দেখা গেছে এই Euro-তেই। টানা ২৬ ম্যাচ আজ্জুদের হারাতে পারেনি কোনো দলই। এবং সেই ‘আনবিটেন রান’ তারা শেষ অবধিই বজায় রেখেছে। ইউরো জয়ীর খেতাব তারা ২য় বারের মতো জয় করেছে।

মানচিনি দলের ভার নেওয়ার পরই বলেন সে এ Euro জিততে চায়। ভেরাত্তির কাছে যেটা ‘অবিশ্বাস্য স্বপ্ন’ এর মতোই লাগছিল। তবে ‘অবিশ্বাস্য স্বপ্ন’ সে স্বপ্নকেই মানচিনি বাস্তবে পরিণত করে, যার সাথে ছিল হৃদয় নিংড়ানো ইতালিয়ান খেলোয়াড়রা। আর এই ইউ জয়ের মাধ্যমেই আবারো ইতালি ফিরলো বিশ্বমঞ্চে।

আন্ডারডগ দের ইউরো

Euro-কে সবাই মিনি বিশ্বকাপ বলে থাকেন। কথাটি এক প্রকার যথার্থ বলে মনে হতে পারে। অল্প কিছে দল বাদে সব বড়ো দল গুলো Euro-তেই। আর সাম্প্রতিক ফর্ম বিবেচনায় বড়ো দলের সংখ্যা টাউ অনেক বেড়ে গেছে এইবারের Euro-তে। প্রতিবারের মতো ফ্রান্স, নেদারল্যান্ড, জারমানি, ইতালি, ইংল্যান্ডের সাথে যোগদান করছে পর্তগালের মতো দেশ।

তারপরও এতো সমোস্ত দল থাকা সত্তেও এইসব Euro যেন তুলে রাখা ছিলো সব আন্ডরডগদের জন্যই। প্রথমেই বলা যাক শেভচেস্কোর ইউন্কেকে নিয়ে। নিজের খেলোয়াড় থাকা অবস্থা তেউ এমন সাফল্য এনে দিতে পারেনি দেশকে, যেইটা নিয়ে এনে দিয়েছে ডাগআউটকে সাথে থেকে। ইংল্যান্ডের সাথে কোয়াটার ফাইনালে ৪-০ গোলে পরাজিতো হলেউ বারবার কমতি ছিলোনা ইউনোস্কের জন্যে।

চেক রিপাবলিকের জন্যেও একই কথা টি প্রযোজ্য। নেদারল্যান্ডের মতো শক্তিশালী টিমকে পেলেনের টিকিট হাতে ধরিয়ে দিয়েছিলো চেকরা। প্লেট্রিক শিকের অনবদ্য পারফরমেন্স চেকরা কোয়াটার ফাইনালে যুদ্ধো করেছিলো। এউরোরই আরেক চমক ডেনমার্কের কাছে তিনারা সেই স্থানে হার মানতে বাধ্য হয়েছিলো।

অথচো ডোনমার্কের আরম্ভ হয়েছিয়ো খুব বাজে ভাবে। ফিনল্যান্ডের সাথে হেরে যাওয়াটা না হয় ধরলাম না। প্রথম ম্যাচে এরিকসেনকে হারিয়ে ফেলে পুরো দল হতাশ হয়ে পড়েছিল। গ্রুপপর্বে দ্বিতীয় ম্যাচে সংগ্রাম করেছিলেন বেলজিয়ামের বিপক্ষে, ডি ব্রাইনার জন্য তাদের কে হার সিকার করতে হয়েছিলো। শুন্য পয়েন্ট হয়েছিলো দুই ম্যাচ শেষে।

এরিকসেন আবার ফিরেছেন। ডেনমার্কও আবার ফিরেছেন। ডেনমার্ক সেখান থেকে আছেন Euro সেমি ফাইনালে। এই বিবর্তিক পেলা আন্টির জেদে বাদ পড়ে হেলেউ গর্বিত ছিলো ডেনমার্ক বাসি তার দল নিয়ে। এরিকসন কে হারানোর দুংখো কে শক্তি বানিয়ে নিয়ে ছিলেন। কায়ের সিমোন, স্সাইকেল অথবা মাহেলে প্রত্যেকটা জাইগাতেই তাদেরকে নতুন করে চিনতে শিখিয়েছেন ডেনমার্ক। এইজন্যই আন্ডারডগ নিজেদেরকে ইতিহাসের পাতাই অন্যতমো একটি Euro শেষ করলো লই কুখ্যাত দলটি।Euro cup 2020

তারুণ্যে তার জয়গান

১৮ বছর বয়সী। সুকান্ত বলেছিলেন যে এই যুগটি ডানা মেলবার; এই বয়সটি অসহনীয়, অসহনীয়। যেন পেড্রি আক্ষরিক অর্থে পিচে সফল হয়েছেন। স্প্যানিশ মিডফিল্ডারের তারকাদের নাম শুনতে পারা স্বাভাবিক। থিয়াগো, বুস্কেয়েটস, রডরি, কোকা; দলে মিডফিল্ডারের কমতি ছিল না। তবে তাদের বাদ দিয়ে একটি ১৬ বছরের ছেলে প্রতিটি খেলায় পিচ হাঁটাচ্ছে!

আমি পেড্রোর কথা বলছিলাম। এই ইউরোতেও স্পেনের হয়ে সর্বাধিক অসামান্য খেলোয়াড় প্যাড্রি। তবে ইউরো শুরুর আগে বার্সেলোনার হয়ে শুরু থেকেই প্রায় প্রতিটি খেলা খেলতেন তিনি। এই ক্লান্তি এতটা ভারী হয়নি পেদ্রির উপরে। ফলস্বরূপ, ইউরোর সেরা তরুণ খেলোয়াড়ের পুরষ্কার তাঁর কাছে গেল। কেবল পেদ্রিই নয়, স্পেনের আরও এক তুর্কি তুর্কি দানির আলমো পুরো মাঠেই আতর ছড়িয়েছিলেন।

এই বছরের ইউরো আগের চেয়ে আরও বেশি তরুণ দেখেছে। সুইডেনের আলেকজান্ডার আইজাক বা ডেনমার্কের ড্রামসগার্ড এবং ওলসেনও ডোনারুমা বা জেরেমি ডউকুতে যোগ দিতে পারেন; এবার ইউরোতে, তারা সকলেই তাদের গৌরব নিয়ে আলোকিত হয়েছিল।

ইউরো দ্য ফ্রপ

পেলে বিশ্বকাপের ফাইনালে প্রথম কিশোর হয়ে ওঠেন। তিনি ১০ নম্বর জার্সি পরেছিলেন। ভবিষ্যতের তারার খ্যাতিও নামের পাশে যুক্ত করা হয়েছে। তবে সম্ভবত এই ইউরোতে এমবিএপি হতাশ করেছে। পুরো ইউরোপে কোনও গোল নেই, টাই ব্রেকের শটটি মিস করে দলকে ডুবিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। পূর্ববর্তী লাইনে “সম্ভবত” শব্দটি ব্যবহারের কারণ হলো কেবল এমবিএপি নয়, এই তালিকার অন্যান্য পরিচিত নামও।Euro cup 2020

এমবিএপি-র পরে হাকান চালানল্লুর নাম আসবে। তুরস্ক এই ইউরোতে একটি “ডার্ক হর্স” হিসাবে উপস্থিত হয়েছিল, মূল আশার অন্যতম এটির নাম। যাইহোক, তিনটি ম্যাচ হেরে, তারা প্রথম পরাজিত হয়েছিল এবং এই দায়িত্বের বেশিরভাগ অংশ হাকানের উপর পড়ে। এটি ছিল পুরো ইউরো জুড়ে অভাবনীয়।

চালানলুর মতো শেজনিও দলটি ডুবে গেল। গ্রুপ পর্বটি ছেড়ে আত্মঘাতী গোলে প্রথম খেলায় পয়েন্ট হারাতে পোল্যান্ডের মূল্য পরিশোধ হয়েছিল।

তবে এটি প্রত্যাশিত ছিল যে কেউ আকাশচুম্বী একটি খেলা দিয়েছে তবে গড়পড়তা, আসলে, ব্রুনো ফার্নান্দেজের নামটি প্রথম আসবে। শেষ পর্যন্ত ফার্নান্দো সান্টোসকে শুরু করার লাইনআপ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। একই ঘটবে অন্য ‘রেড ডেভিল’ মার্কাস রাশফোর্ডের ক্ষেত্রে। আপনি যদি তালিকায় যুক্ত করতে চান তবে রুবেন ডিয়াজ, সার্জ নাবরী এবং ক্যারাস্কো সম্পর্কে কথা বলুন।

পেলান্টিজুজু

জনগণের আলোচনা এবং বাক্যটির সমালোচনা করার শেষ নেই। পেনাল্টি স্পট থেকে কেউ স্কোর করেছে, তাই তারা তাকে ছুরিকাঘাত করেছিল। কেউ এটি মিস করেছেন, তবে এটিও স্তব্ধ হয়ে গেছে। কোন জরিমানা, করাত খোল!

ভিডিও রেফারি সহকারীকে ধন্যবাদ জানিয়ে ফুটবল এখন আগের তুলনায় আরও বেশি জরিমানা ভোগ করছে। এই ইউরোও তার ব্যতিক্রম নয়। মোট, রেফারি পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে ১৭ বার বাশি দিয়েছিলেন পেলান্টি দেবার জন্যে, যা ইউরো এর চেয়ে চারটি বেশি তবে, এই ইউরো লোকসানের দিক থেকে সবাইকে ছাড়িয়ে গেছে। খেলোয়াড়রা ১৬ টি পেনাল্টির মধ্যে ৬ টি মিস করেছে। অবশ্য গোলের কৃতিত্ব না দেওয়াও পাপ। গোলরক্ষকগণের বিপক্ষে ৬ টির মধ্যে বাধা হয়ে দাঁড়ায়!

তার পরও পূর্বর সব ইউরো আসর মিলিয়ে ৮৮ পেলান্টির মধ্য থেকে মিসের মোট সংখ্যা ছিলো ২৬ টি। যেইটি শতকরা হিসাবে ছিলো ২৯ শতাংশ। আরও চলতি ইউরোর মিসের পরিমান বেড়ে দাড়িয়েছে ৪৭ শতাংশ এই যুগের ফুটবলার নিজেদের নার্ভ স্থান টিকিয়ে রাখার জন্যে পিছিয়ে গেছেন পূর্বসূরিদেন থেকে?

দেওয়াল হয়ে যারা ছিলেন

 রাহুল দ্রাবিড় ক্রিকেটে “দ্য ওয়াল” নামে পরিচিত ছিল। ফুটবলের সম্ভবত এমন কেউ নেই যিনি এই জাতীয় বিশেষণগুলিতে বিশেষীকরণ করেন। যাইহোক, এই ইউরোতে, গোলরক্ষকরা যেন বাজি ধরেছে, সবাই প্রাচীর হয়ে যাবে। বেশিরভাগ গোলরক্ষক এই ইউরোতে দুর্দান্ত পারফর্ম করেছেন। ইয়ান সামার আলাদাভাবে নামকরণ করা প্রথম হবে।

ফ্রান্স ও স্পেনের সামনে সমর দানবের মতো দাঁড়িয়ে রইল। তিনি এমবিএপির টাইব্রেকার পেনাল্টিও বন্ধ করে দিয়েছিলেন। কোয়ার্টার ফাইনালে কোনও স্প্যানিয়ার্ড তাকে রিয়েল টাইমে পরাজিত করতে পারেনি। তিনি যে লক্ষ্যটি খেয়েছিলেন তাও একটি আত্মঘাতী লক্ষ্য ছিল। তিনি স্পেনের বিপক্ষে মোট ৯ টি সেভ করেছেন। দুর্ভাগ্যক্রমে, তারা এবার কোনও টাই ভাঙতে পারেনি, সুইসকে অবশ্যই কোয়ার্টার ফাইনাল ছেড়ে যেতে হবে।

সমর যদি সুইসদের হত তবে ড্যান্স ছিলেন ক্যাস্পার স্মাইল। পাপা আশ্চর্যরূপে পিটার স্মাইলের উত্তরাধিকার নিয়েছেন। লিসেস্টার সিটির হয়ে প্রিমিয়ার লিগে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স আবারও জাতীয় দলকে ড্র করেছে। বাবার মতো নয়, ডেনমার্ক এবার প্রায় ইউরো শিরোপা জিততে পারেনি। তবে এতে কোনও আফসোস নেই, তিনি ক্যাস্পারের জন্য সবই করেছিলেন। হ্যারি মাগুয়ের যেভাবে ডেনমার্কের অতীত শিরোনামকে অবরুদ্ধ করেছিল তা ফাইনালটিতে চিত্তাকর্ষণ করতে পারে নি। হ্যারি কেনের পেনাল্টি শটটিও শুরুতেই অবরুদ্ধ ছিল। অবশ্যই, ক্যাস্পার বাঁচানোর জন্য সর্বশেষ ছিল না এবং ডেনমার্কও ছিল না। রিটার্ন শট করলেন কেইন; ক্যাস্পার এমনকি পরিবেশনটির দিকেও তাকেনি, সে চেঁচিয়ে উঠল।

স্মাইকেল, সামাররা কোনও দলের সাফল্য ছিল না তবে ডোনারুমার সব সাফল্য পেয়েছে। আপনি যা স্পর্শ করেছেন তা সোনার মতো। সেমিফাইনাল এবং ফাইনালের নায়কও ইউরো ব্যালন ডি’অরকে আলিঙ্গন করেছিলেন, যা ইউরো ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনও গোলরক্ষক ব্যালন ডি’অর জিতেছে। অলিভার কেনের পরে বিশ্বকাপ জয়ের পরে ডোনারুমাই দ্বিতীয় ব্যক্তি। বিশ্ব শুনেছে যে ইতালির বাফনের যোগ্য উত্তরসূরি রয়েছে।

তা ছাড়া সুইডেনের ওলসেন এবং ইংল্যান্ডের পিকফোর্ডও ইউরো নিয়ে কিছুটা আলোকপাত করেছিলেন।

অনেকের মতে, কৌশলগত বা রোমাঞ্চকর বইটিতে বিবেচনা করার জন্য এটি অন্যতম সেরা ইউরো। অনেকে একমত হবেন তবে অনেকের দৃষ্টিতে এটি ভিন্ন হতে পারে। তবে, এটি ছাড়াই বলা যায় যে ফুটবল অনুরাগীরা এই ইউরোর প্রশংসা করেছে। ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপ তিন বছরে ফিরে আসবে, ততোদিন অবধি।

বিদাই জানাই ইউরো ২০২০ কে,আবার দেখা হবে জার্মানি তে।

Thanks For Visit.

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button